কারেন্ট, ভােল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্স | Current, voltage and resistance

কারেন্ট, ভােল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্স (Current, voltage and resistance) :

কারেন্ট : কোন পরিবাহীর যে কোন প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান (চার্জ) প্রবাহিত হয় তাকে কারেন্ট বা প্রবাহ মাত্রা বলে।

কোন পরিবাহীর যে কোন প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে t সময়ে Q পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয়, তাহলে, কারেন্ট I হবে, I =(Q/t) অ্যাম্পিয়ার।

কারেন্টকে অনেক সময় I বা C দ্বারাও প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

ভোল্টেজঃ দুটি বিন্দুর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় উক্ত বিন্দুদ্বয়ের ভােল্টেজ বজায় রাখতে প্রয়ােজনীয় চাপ বা বল হচ্ছে বিদ্যুৎচালক বল বা বৈদ্যুতিক চাপ। (ভােল্টেজ)।
অসীম বিন্দু হতে বৈদ্যুতিক বলের (Electric force) বিরুদ্ধে যে কোন বিন্দুতে একক ধনচার্জকে আনতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তাকে উক্ত বিন্দুর বৈদ্যুতিক চাপ বলে। বৈদ্যুতিক চাপের ব্যবহারিক একক ভােল্ট এবং এর প্রতীক E ।
যদি এ কুলম্ব চার্জ স্থানান্তরের জন্য W জুল কার্য সম্পাদিত হয়, তাহলে সংজ্ঞানুসারে বৈদ্যুতিক চাপ, E = জুল/কুলম্ব বা ভােল্ট। একে আবার বিদ্যুৎচ্চালক বল (Electromotive force) বা ইএমএফ (EMF) বা ভােল্টেজ পার্থক্য (Potential difference) বলে।
ভােল্টেজকে ইংরেজি অক্ষর v বা E দ্বারা নির্দেশ করা হয়। ভােলেজ, ইএমএফ ও বিভব পার্থক্যের ব্যবহারিক একক ভােল্ট (Vol)।

রেজিস্ট্যান্স বা রােধ (Resistance) ঃ পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট বিঘ্নিত হয় তাকে রেজিস্ট্যান্স বলে। এর ব্যবহারিক একক ওহম  এবং এর প্রতীক R

কারেন্ট, ভােল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্সের একক (Units of current, voltage and resistance) :

কারেন্টের একক ও কারেন্টমাত্রার চারটি একক আছে।

(১) সিজিএস বিদ্যুৎ একক (CGS esu):  (১) স্থির বিদ্যুৎ একক (1 esu) = 3.33 x 10-10 অ্যাম্পিয়ার

(২) সিজিএস বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় একক (cGS emu) ও বিদ্যুৎ চুম্বকীয় একক (1 eu) = 10 অ্যাম্পিয়ার। |

(৩) ব্যবহারিক একক (Practical unit) ঃ কারেন্ট মাত্রার ব্যবহারিক এককের নাম অ্যাম্পিয়ার (Ampere)।

(৪) আন্তর্জাতিক একক ? কারেন্ট মাত্রার আন্তর্জাতিক এককের নাম আন্তর্জাতিক অ্যাম্পিয়ার।

ভােল্টেজের একক ও বৈদ্যুতিক ভােল্টেজের তিনটি একক আছে।

(১) স্থির বিদ্যুৎ একক ও একে সংক্ষেপে ইএসইউ (esu) ভােল্টেজ লেখা হয়।
1 ইএসইউ = 300 ভােল্ট = 3 x 1010 ইএমইউ।

(২) বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় একক ঃ 1 ইএমইউ = 10-8 ভােল্ট।

(৩) ব্যবহারিক একক ও ভােল্টেজের ব্যবহারিক একক ভােল্ট (Volt)।

(৪) আন্তর্জাতিক ভােল্ট (International volt) ঃ আন্তর্জাতিক
ভােল্ট = 1.00033 ভােল্ট ।

(গ) রেজিস্ট্যান্সের একক ঃ রেজিস্ট্যান্সের চারটি একক আছে।
(১) স্থির বিদ্যুৎ একক (esu) ঃ 1 স্থির বিদ্যুৎ একক (1 esu) = 9 x10-20 বিদ্যুৎ চুম্বকীয় একক (emu) ।

(২) সিজিএস বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় একক ? 1 বিদ্যুৎ চুম্বকীয় একক (1
emu) =oxo2O স্থির বিদ্যুৎ একক (esu)

(৩) ব্যবহারিক একক ঃ রেজিস্ট্যান্সের ব্যবহারিক এক ওহম(Ohm)। এছাড়াও মেগা-ওহম (mega ohm) বা 106 ওহম এবং মাইক্রোওহম বা 106 ওহমকে রেজিস্ট্যান্সের একক হিসেবে ব্যবহার
করা হয়।
(৪) আন্তর্জাতিক ওহম ঃ 1 আন্তর্জাতিক ওহম = 1.000495 ওহম ।

অ্যাম্পিয়ার, ভােল্ট ও রেজিস্ট্যান্স:

 অ্যাম্পিয়ার :

(i) কোন একটি পরিবাহীর কোন প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে 1 সেকেন্ডে 1 কুলম্ব চার্জ অতিক্রম করলে যে কারেন্ট মাত্রার সৃষ্টি হয় একে এক অ্যাম্পিয়ার
1 কুলম্ব বলে। 1 অ্যাম্পিয়ার = 1C/1Sec
1 সেকেন্ড

(ii) স্থির তাপমাত্রায় এক ওহম রেজিস্ট্যান্স বিশিষ্ট কোন একটি পরিবাহীর দুই প্রান্তে ভােল্টেজ 1 ভােল্ট হলে এতে যে কারেন্ট মাত্রার সৃষ্টি হয় তাকে এক
1 ভােল্ট অ্যাম্পিয়ার বলে। 1 অ্যাম্পিয়ার =1V/1 ওহম

(iii) 1 সেমি ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট বৃত্তাকারে বাঁকানাে কোন একটি পরিবাহীর 1 সেমি । দীর্ঘ চাপের মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবার ফলে বৃত্তের কেন্দ্রে।স্থাপিত একটি একক চৌম্বক উত্তর মেরুর উপর 0.1 ডাইন বল প্রযুক্ত হয় ঐ পরিমাণ কারেন্টকে এক অ্যাম্পিয়ার বলে । এছাড়াও মিলিঅ্যাম্পিয়ার অর্থাৎ 10-3 অ্যাম্পিয়ার এবং মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার অর্থাৎ 10-0 অ্যাম্পিয়ারকে কারেন্ট মাত্রার একক হিসেবে ব্যবহার করা

ভােল্টঃ অসীম দুরতু হতে 1 কুলম্ব ধন চার্জকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের ভেতরের। কোন বিন্দুতে আনতে যদি 1 জুল কাজ করতে হয় তবে ঐ বিন্দুর বিভবকে 1 ভােল্ট

রেজিস্ট্যান্সঃ কোন স্থির রেজিস্ট্যান্সের পরিবাহীর দুই প্রান্তে এক ভােল্টেজ পার্থক্য থাকলে এর মধ্য দিয়ে যদি একক মাত্রার কারেন্ট চলে তবে উক্ত পরিবাহীর রেজিস্ট্যান্সকে একক রেজিস্ট্যান্স বলে।

অ্যাম্পিয়ার ও ভােল্ট এর মধ্যে পার্থক্যঃ

(১) অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহের একক কিন্তু ভােল্ট বিদ্যুচ্চালক বল বা  বৈদ্যুতিক চাপের একক।

(২) অ্যাম্পিয়ারের প্রতীক A এবং ভােল্টের প্রতীক V

(৩) বর্তনীর অ্যাম্পিয়ারেজ মাপতে অ্যাম্পিয়ার মিটার বা অ্যামিটার ব্যবহার করা হয় । কিন্তু ভােল্টেজ মাপতে ভােল্টমিটার ব্যবহার করা হয়।

কপার একটি উৎকৃষ্ট পরিবাহী-এ কথার সত্যতা যাচাইঃ

কপারের পারমাণবিক গঠন চিত্র অঙ্কন করে দেখা গেল এর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা একটি এবং 4 এর নিচে। তাছাড়া এর বহুল ব্যবহারের কারণ ও
(১) পরিবাহী হিসেবে অত্যন্ত ভাল বা সুপরিবাহী। (২) দামে সস্তা এবং । (৩) প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ।

Leave a Comment