বিদ্যুৎ ,এ্যাটম, ভােল্টেজ ,কুলম্ব, রেজিস্ট্যান্স, এ্যামপিয়ার

বিদ্যুৎ কি?

উত্তরঃ বিদ্যুৎ এমন এক অদৃশ্য বল বা শক্তি যা আলাে, তাপ, শব্দ, গাত উৎপন্ন করে এবং অসংখ্য বাস্তব কাজ সমাধা করে।
বিদ্যৎ প্রবাহের ফলে কি কি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়
উত্তরঃ
(১) তাপীয় ফল,
(২) চৌম্বক ফল এবং
(৩) রাসায়নিক ফল।

বিদ্যুতের চৌম্বক ফল বলতে কি বােঝায়?

উত্তরঃপরিবাহীর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহীর চতুর্দিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, এটাই বিদ্যুতের চৌম্বক ফল বা Magnetic Effect.

বিদ্যুতের তাপীয় ফল আমাদের কোন্ কাজে লাগে?

উত্তরঃ বৈদ্যুতিক বাতি বা বাল্ব হতে আলাের বিচ্ছুরণ, বৈদ্যুতিক হীটার হতে তাপ বিকিরণ-এসবই বিদ্যুতের তাপীয় ফল।।

বিদ্যুতের রাসায়নিক ফল বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ যদি কোন যৌগিক পদার্থের দ্রবণে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তবে উক্ত দ্রবণটি বিশ্লিষ্ট হয়। এ বিশ্লেষণকে বৈদ্যুতিক বিশ্লেষণ বা Electrolysis বলে। অম্লমিশ্রিত পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে উক্ত পানি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনে বিশ্লিষ্ট হয়, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক-শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটাই বিদ্যুতের রাসায়নিক ফল বা Chemical Effect.

এ্যাটমের কয়টি অংশ এবং কি কি?

উত্তর এ্যাটমের দুটি অংশ। যথা :
(১) নিউক্লিয়াস (Nucleus)
(২) নিউক্লিয়াস-বহির্ভূত (Extra-Nucleus)।

বিদ্যুতের তাপীয় ফল বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যখন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন পরিবাহীটি উত্তপ্ত হয়। ফলে বৈদ্যুতিক শক্তির অপচয় ঘটে। বৈদ্যুতিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটাই বিদ্যুতের তাপীয় ফল বা Heating Effect."

এ্যাটম বা পরমাণুর বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ এ্যাটম বা পরমাণু কোন মৌলিক পদার্থের এমন একটি ক্ষুদ্রতম অংশ যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং যার স্বাধীন বা বাস্তব কোন অবস্থান নেই। বিদ্যুতের রাসায়নিক ফল কোন কাজে লাগে? উত্তরঃ নদাতের সাহায্যে এক ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে সভা-সেটিং (Electroplating) বলে এবং এটাই বিদ্যুতের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল। বিদ্যুতের চৌম্বক ফল কি কাজে লাগে? উত্তরঃ বৈদ্যতিক শক্তিকে চৌম্বক-শক্তিতে রূপান্তরিত করার তত্ত্বটি বৈদ্যুতিক। ঘণ্টা, জেনারেটর, মটর ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। কোন বস্তু পজিটিভ চার্জযুক্ত হয় কেন? উত্তরঃ যদি কোন নিরপেক্ষ বস্তু হতে কিছু সংখ্যক ইলেকট্রনকে সরিয়ে নেয়া হয়। মত ইলেকট্রনের ঘাটতি এবং প্রােটনের আধিক্য দেখা দেয়। তাই একে পজিটিভ চার্জ যুক্ত বস্তু বলে। কোন বস্তু নেগেটিভ চার্জযুক্ত হয় কেন? উত্তরঃ যদি কোন নিরপেক্ষ বস্তুতে ইলেকট্রন সরবরাহ করা হয়, তবে উক্ত বস্তুতে ইলেকটনের আধিক্য এবং প্রােটনের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই একে নেগেটিভ চার্জযুক্ত বস্তু বলে। এ্যাটমে নিউক্লিয়াসের অবস্থান কোথায় এবং এটি কিভাবে গঠিত? উত্তরঃনিউক্লিয়াস এ্যাটমের কেন্দ্রে অবস্থিত কঠিন অংশ যা ক্ষুদ্র দু’টি কণিকা দ্বারা গঠিত । একটি প্রােটন (Proton) এবং অন্যটি নিউট্রন (Neutron) নামে পরিচিত। প্রােটন পজিটিভ চার্জ বা আধান বহন করে, কিন্তু নিউট্রন কোন চার্জ বা আধান বহন করে না। সে কারণে নিউট্রন বৈদ্যুতিক ভাবে নিরপেক্ষ।

কবে এবং কে ইলেকট্রন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?

উত্তরঃ ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী নীলস বাের ইলেকট্রন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।

নিউক্লিয়াস সম্পর্কে পূর্ববর্তী ধারণা এবং পরবর্তী ধারণার মধ্যে তফাৎ কি?

উত্তরঃ ভর যখন “ইলেকট্রন তত্ত’ উদ্ভাবিত হয়, তখন ধারণা করা হত যোনভাস শুধুমাত্র প্রােটন ও নিউট্রন দ্বারাই গঠিত । কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত কণিকা দুটি ছাড়াও আরও কতগুলাে কণিকা আবিষ্কৃত হয়েছে, যাদের নাম পজিট্রন (Positron), মেসন (Meson), (Neutrino)

নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে আবর্তিত ইলেকট্রন কোন কাজ কতটা থাকবে, তা কিসের উপর নির্ভর করে?

উত্তরঃ নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে সবগুলাে ইলেকট্রন একটি মাত্র কক্ষ। আবর্তিত হয় না; বরং একটি কক্ষ পথে সর্বোচ্চ কতগুলাে ইলেকট্রন আবর্তিত হবে তা নির্ভর করে 2n2 এর উপর; যেখানে n হল কক্ষ সংখ্যা।

চলমান বিদ্যুৎ কি?

উত্তরঃ যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন স্থানে স্থির না থেকে আলাে, তাপ, চাপ বা আবেশের কারণে পদার্থের মধ্যে দিয়ে ধাবিত হয় তাকে চলমান বিদ্যুৎ বা Current Electrictv বলে।

বৈদ্যুতিক কারেন্ট বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ পদার্থের মধ্যকার মুক্ত ইলেকট্রনসমূহ একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকেই কারেন্ট বলে।

ভােল্টেজ কি? বিদ্যুৎ-চালক বল বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ পরিবাহীর পরিমাণুগুলাের ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়ােজন হয়, সে বল বা চাপকেই বিদ্যুৎ-চালক বল বা Electromotive force (EMF) বা ভােল্টেজ বলে। এক কথায়, বৈদ্যুতিক চাপকেই ভােল্টেজ বলে।

স্থির বিদ্যুৎ বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎকেই স্থির বিদ্যুৎ বা Static Electricity বলে। এ বিদ্যুৎ সকল বস্তুতে একই ধরনের হয় না, একেক বস্তুতে একেক ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

কুলম্ব কি?

উত্তরঃ যদি কোন পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে এক সেকেন্ডে এক এ্যামপিয়ার। কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তবে উক্ত সময়ের জন্য যে পরিমাণ চার্জ প্রবাহিত হয়, তাকে এক কুলম্ব (Coulomb) বলে
1 কুলম্ব = 628 x 1016 ইলেকট্রনের চার্জ

রেজিস্ট্যান্স কাকে বলে?

উত্তরঃ পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় পরিবাহী পদার্থের যে বিশিষ্ট বা ধর্মের কারণে এটা বাধাগ্রস্ত হয়, উক্ত বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকেই রেজিস্ট্যান্স বা রােধ বলে।

এ্যামপিয়ারের কাকে বলে?

উত্তরঃ কোন পরিবাহীর যে কোন অংশের মধ্যে দিয়ে যদি এক সেকেন্ড ধরে এক কলম্ব চার্জ প্রবাহিত হয় তবে উক্ত পরিমাণ চার্জকে এক এ্যামপিয়ার বলে।

এক আন্তর্জাতিক এ্যামপিয়ার বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ যদি কোন সিলভার নাইট্রেট সলুশনের (দ্রণ) মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করানাে হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে 0.001118 গ্রাম সিলভার (রূপ) জমা হতে যে। পরিমাণ কারেন্টের প্রয়ােজন হয় তাকে এক আন্তর্জাতিক এ্যামপিয়ার বলে ।।

Leave a Comment